স্টাফ রিপোর্টার:জে এস সেলিম
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায় পরিবেশগত সমস্যা এক নতুন মাত্রা নিয়েছে। বিশেষ করে, স্থানীয় ইটভাটাগুলোর কার্যকলাপের কারণে বাড়ছে কার্বন নিঃসরণ, যা পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যসূত্রে জানা যায়,নামে বেনামি গড়ে ওটা ইট ভাটা ইটভাটাগুলোর গুলোর সংখ্যা প্রায় ২১০ টি অনুমোদন রয়েছে মাত্র ১৬ টি’র এসব ইটভাটায় ধোঁয়া এবং কার্বন নিঃসরণ শুধু আশপাশের এলাকার পরিবেশকেই দূষিত করছে না, বরং শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেও বিপদগ্রস্ত করছে।
স্থানীয় ইটভাটাগুলোর কার্যক্রমের প্রধান উপাদান হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে কাঠ, কয়লা, এবং অন্যান্য জ্বালানি পোড়ানো। এই পোড়ানো প্রক্রিয়ায় যে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂), সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) এবং অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসৃত হয় তা সরাসরি পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। বিশেষত, এই গ্যাসগুলো যখন দীর্ঘসময় ধরে নিঃসৃত হয়, তখন তা বাতাসের গুণগত মানকে হুমকির মুখে ফেলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে।
এছাড়া, গাইবান্ধা জেলায় অনেক ইটভাটা যেগুলো বিশেষভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে না, সেখানে এই ক্ষতিকর পদার্থের নিঃসরণ আরও বেশি হয়।
গাইবান্ধা জেলা ও আশপাশের এলাকা যেমন গ্রামের কাছাকাছি ইটভাটা, স্কুল এবং কলেজের অবস্থান, সেখানে প্রতিদিনকার চলাচলে মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষত, শিশুদের জন্য এই ক্ষতির পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।
শিশুরা অধিকাংশ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকে, যেখানে ইটভাটার ধোঁয়া এবং কার্বন নিঃসরণ সরাসরি তাদের শ্বাসনালীতে প্রবাহিত হয়। দীর্ঘ সময় এই ধরনের দূষণের শিকার হলে তারা শ্বাসযন্ত্রের রোগ, যেমন হাঁপানি (অ্যাজমা), কাশি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া, শিশুর মানসিক ও শারীরিক উন্নয়নের উপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ইটভাটার ধোঁয়া এবং কার্বন নিঃসরণ থেকে দূষিত বাতাসে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ, হৃৎপিণ্ডের সমস্যা এবং ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষত, বৃদ্ধ এবং যাদের পূর্বে শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা আরও বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
—
ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং গ্যাসগুলো শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটি পরিবেশের জন্যও মারাত্মক। এই গ্যাসগুলো বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে, যা গ্রীনহাউস গ্যাসের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং অতি বৃষ্টিপাত, অনাবৃষ্টি, তাপপ্রবাহের মতো সমস্যা দেখা দেয়।
বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে বেশ কিছু আইন রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এসব ইটভাটা গুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা এবং পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া।
এই সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণেরও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। কিছু পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই সমাধান রয়েছে, যেমন—হাইব্রিড ইটভাটা, যেগুলো কম জ্বালানি খরচ করে এবং কম কার্বন নিঃসরণ করে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আবেদন:* স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় জনগণের সচেতনতা:* ইটভাটা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। ইটভাটা পরিচালনাকারীদের পরিবেশগত আইন মানার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
-আইন প্রয়োগ পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম নিয়মিতভাবে মনিটর করতে হবে এবং পরিবেশগত আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
গাইবান্ধা জেলা এবং বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের ইটভাটা থেকে নির্গত কার্বন নিঃসরণ পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। স্থানীয় প্রশাসন, জনগণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করে এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং সরকারকেও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
—
এই প্রতিবেদনে আপনি আরও অনেক তথ্য বা উদ্ধৃতি যোগ করতে পারেন, যেমন: স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার, পরিবেশবিদদের মতামত, ইটভাটার মালিকদের বক্তব্য ইত্যাদি। আশা করি, এটি আপনাকে সাহায্য করবে।



