সাদুল্যাপুরে মামুন হত্যার ঘটনায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চলছে, অভিযোগ উপজেলা জামায়াতের

সাদুল্যাপুরে মামুন হত্যার ঘটনায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চলছে, অভিযোগ উপজেলা জামায়াতের

মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন হত্যাকান্ডের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের পক্ষ থেকে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারী(বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪ টায় ধাপেরহাটের জামদানী রাস্তার মোড়ে মামুনের উপর দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা করলে মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরের দিন সাদুল্যাপুর থানায় ২৭ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন হত্যাকান্ডের শিকার মামুনের পিতা আব্দুল মান্নান। মামলাটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে জামায়াত-শিবিরের ১৩ নেতা-কর্মীকে আসামী করা হয়েছে। বাকি ১৪ জনের মধ্যে বর্তমান ধাপেরহাট ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন তার সহোদর ভাইসহ আওয়ামীলীগ নেতা রিমেল মাস্টারও রয়েছেন।

মামলার বিষয়টি নিয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা জামায়াত আমীর এরশাদুল হক ইমনের সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, “পরিকল্পিত ভাবে একটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মামলার ভবিষ্যত রায়কে প্রভাবিত করার জন্য একতরফা ভাবে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো শুরু করেছেন। এই হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চলছে”। তার প্রমাণ স্বরুপ ধাপেরহাট ও সাদুল্যাপুরের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের ১৩ নেতা-কর্মীর নাম সম্বলিত পোস্টার লাগানোর বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

এই ব্যাপারে মামলাটির অন্যতম আসামী সাদুল্যাপুর উপজেলা ছাত্র ও যুব জামায়াতের সভাপতি গোলাম রব্বানী রতনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “মামুন হত্যাকান্ডের সাথে আমার এবং জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের দুরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ”

একই ব্যাপারে গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু’র সাথে কথা হলে তিনি জানান, একটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য আমাদের নেতা-কর্মীদের আসামী করেছে এবং জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কোনো প্রকার অপপ্রচারে কান না দিয়ে মামুন হতয়াকান্ডে জড়িত প্রকৃত আসামীদের বিচারের আওতায় আনার দাবীও জানান তিনি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *