জে এস সেলিম
গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার কামার পাড়ায় রেলওয়ে স্টেশনের প্রায় ১৫ বিঘা আবাদি জমি দখল করে সার্কাসের নামে চলছে হাউজি খেলা ও জুয়ার আখড়া। স্থানীয়দের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও বিনোদনের নামে সমাজ ধ্বংসের এ আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সার্কাসের আড়ালে প্রতিদিন রাতভর হাউজি খেলা ও জুয়ার আসর বসছে। এতে এলাকার তরুণ ও যুব সমাজ বিপথগামী হয়ে মাদকাসক্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। অথচ প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
স্থানীয় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সন্তানরা রাতে বাড়ি ফিরছে না, সার্কাসের নামে শুরু হওয়া এ জুয়ার আসরে আসক্ত হয়ে পড়ছে। প্রশাসন কি দেখেও না দেখার ভান করছে?”
আরেকজন স্থানীয় যুবক বলেন, “বিনোদনের নামে সমাজে নেশার বিস্তার হচ্ছে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই। অন্যথায় বড় ধরনের সামাজিক সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একজন জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। ফলে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে।
এ বিষয়ে সাদুল্ল্যাপুর উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তবে কবে এবং কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রেলওয়ের এ জমিতে আবাদ বন্ধ করে জুয়ার আখড়া বসানো শুধু অবৈধ নয়, সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তারা দ্রুত সার্কাসের আড়ালে চলা অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধার মতো মফস্বল শহরে এমন ঘটনা তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনছে বলে মনে করছেন সমাজ সচেতনরা। প্রশাসন যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এলাকাবাসী।



