গাইবান্ধা প্রতিনিধি:জাহাঙ্গীর আলম প্লাবন
গাইবান্ধা সদর উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাহাপাড়া ইউনিয়নের দা’য়ী ছিলেন শহীদ মোস্তফা মঞ্জিল। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে তার সাহসিকতার কারণে এবং স্হানীয় আওয়ামী লীগ নেতার চক্রান্তে মিথ্যা তথ্যের স্বীকার হয়ে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন তিনি।
স্বৈরশাসকের ক্ষমতার মসনদ পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে স্বৈরাচারী মনোভাবে অবৈধ ক্ষমতাকে ধরে রাখতে গুম,খুন,হত্যা ও জুডিশিয়াল কিলিংয়ের অংশ হিসাবে নির্বিচারে মানুষ হত্যা বিরোধী মত দমনের মিশনে নামে শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার। অপরদিকে স্বাধীনচেতা ও মুক্তিকামী মানুষের তীব্র গণ আন্দোলনে দেশব্যাপী টানা তিন মাস অবরোধ,পেট্রোলবোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা, ক্রসফায়ারের
নামে মামলা দিয়ে জামায়াত শিবির নিধন ও তাদের ঘরবাড়ি জ্বালাও পোড়াও করা হয়।
এমন উত্তাল পরিস্থিতিতে ঘরে বসে থাকতে পারেনি মুক্তিকামী মানুষ। সে সমময় আলেম-উলামাদের তথাকথিত নির্বিবিচারে হত্যার নামে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে বিরোধিতাকারিদের মধ্যে শহীদ মোস্তফা মঞ্জিল ছিলেন সামনের সারির অন্যতম একজন নেতা। সেসময় গাইবান্ধা তুলসীঘাটের বুড়ীর ঘর নামক জায়গায় তাকে নেয়া হয় এবং সেখানে
তার সুন্দর সুন্নতী দাড়িগুলো কেঁটে দেয়া হয়। এরপর চোঁখ,হাত,পায়ের নখগুলো প্লাস দিয়ে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। অমানবিক নির্যাতনের পর শিবিরের এই নেতার মাথায়,বুকে,পায়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। উত্তরবঙ্গের রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের মৃত রশিদার রহমান এবং মরিয়ম আক্তার রেজিয়া ৪ছেলে মেয়ের মধ্যে মোস্তফা মঞ্জিলুর রহমান সবার ছোট। তার বিধবা স্ত্রী উলফাত জাহান ও পিতা হারা এতিম একমাত্র মেয়ে আতকিয়া নাজমিন পিতা হারানোর স্মৃতি মনে না থাকলেও বান্ধবীদের পিতাকে স্কুলে দেখে মায়ের কাছে বাবার কথা জানতে চায় কিন্তু বাবা যে না ফেরার দেশে চলে গেছেন, পরিবারের কেউ তাকে বুঝাতে পারেনা ও সেও নিজেও বুঝতে চায়না। সে বলে আমার বাবাকে এনে দাও আমি একটু দেখব।
অবুঝ আতকিয়া নাজমিনের আহাজারিতে প্রতিনিয়ত আকাশ বাতাস ভারী হচ্ছে।
শহীদ মোস্তফার বয়োবৃদ্ধ মা” প্রতিদিন কবরের কাছে গিয়ে ছেলের শোকে কান্না করে আর বলে আমার বাবা জান্নাতের পাখি হয়ে উড়ে গেছে। অসংখ্য শহীদদের রক্তের বিনিময়ে সম্পূ্র্ণ নতুন রূপে বাংলাদেশ আজ মানুষ গড়ার কারিগর। মানুষেরা কথা বলার জায়গা পেয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছে। বিচারের আশ্বাস পেয়েছে। স্হানীয় আওয়ামী নেতারা মোস্তফার লাশ দিনের বেলায় ও প্রকাশ্যে দাফন করতে বাঁধা দেন।এছাড়াও ষড়যন্ত্র চলে লাশ গুম করে দেয়ার।
পরবর্তীতে তথাকথিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তার দাফন কাজ সম্পন্ন হয়। স্থানীয় স্বৈরাচারী ক্ষমতা দেখিয়ে উল্টো শিবিরের এই নেতার পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এখনো অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেই স্বৈরাচারের দোসররা। যারা সরাসরি শহীদ মঞ্জিলকে হত্যার মিশনে যুক্ত ছিল।



