জে এস সেলিম
বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষ আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি কর্মীর কাছ থেকে অলিখিতভাবে দুই থেকে চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করছে।
বেকারত্বের চাপে বিপর্যস্ত যুবসমাজ একটি চাকরির আশায় শেষ সম্বল ভিটেমাটি বিক্রি করে এসব প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেয়। তবে চাকরিতে যোগদানের পর শুরু হয় নানা ভোগান্তি। দিনভিত্তিক মজুরি নির্ধারিত থাকলেও মাসের পর মাস তারা বেতন পান না। বেতন চাইলে ঠিকাদাররা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে নিজেদের রক্ষা করে। ফলে কর্মীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।
সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কাজে নিয়োজিত এসব কর্মীর প্রায় কারোই পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ থাকে না। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে কাজের মান কমে যাচ্ছে, যা দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেশিরভাগ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। কিছু প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, “আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করছি। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকলেও তা সার্বিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে না।” তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।” তবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
শ্রম বিশেষজ্ঞ ড. মাহমুদ হাসান বলেন, “আউটসোর্সিং পদ্ধতি জনবল সংকট নিরসনে কার্যকর হলেও এর অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম চলছে, তা বন্ধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।



