১০ বছরের শিশু ধর্ষণের মূল্য দেড় লাখ টাকা, মাতব্বররা নেন ৫৮ হাজার

১০ বছরের শিশু ধর্ষণের মূল্য দেড় লাখ টাকা, মাতব্বররা নেন ৫৮ হাজার

অনলাইন ডেক্স:
টাঙ্গাইলে ফিরোজ মিয়া (৪৫) নামে এক সিএনজি চালকের বিরুদ্ধে ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর, স্থানীয় প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। সালিশে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়া হয় মাত্র ৯২ হাজার টাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাকি ৫২ হাজার টাকা মাতব্বররা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন।
এ ঘটনায় শনিবার (৮ মার্চ) ভুক্তভোগী শিশুটির মা মির্জাপুর থানা একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নানির বাড়ি বেড়াতে যান ভুক্তভোগী। তখন ওই গ্রামের ফিরোজ মিয়া কৌশলে ওই শিশুকে ডেকে নিয়ে একটি টয়লেটের ভিতর ধর্ষণ করে। ঘটনার পর বাড়িতে গিয়ে মেয়েটি কান্নাকাটি করায় তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে তার সঙ্গে ঘটনার বর্ণনা দেন। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বেশ কয়েকজন মাতব্বর সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

‎ভুক্তভোগী ওই শিশুটির মা জানান, আমার স্বামী প্রবাসে থাকায় আমি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছি। স্থানীয়রা বিষয়টি সুষ্ঠু একটি মীমাংসা করে দেবেন এমন আশ্বাসের কারণে কোথাও অভিযোগ করিনি। ঘটনার দীর্ঘদিন পর সালিশের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে জুতার বাড়ি ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু আমি পেয়েছি মাত্র ৯২ হাজার টাকা।

এই বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাটি আমি পরস্পর শুনেছি। পরে শুনলাম ওরা নিজেরাই মীমাংসা করেছে।

এ বিষয়ে ‎মির্জাপুর থানার ওসি মোশারফ হোসেন জানান, শনিবার দুপুরে বেশ কয়েকজনের নামে ভুক্তভোগীর মা একটি মামলা দায়ের করেছে। ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে যারা সালিশ আয়োজন করেছিল, তাদেরও মামলার আসামি করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারব।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *