“মার্চ ফর ডেমোক্রেসি” থেকে “জুলাই বিপ্লব” স্বৈরাচারের দীর্ঘ সময়ের দমন-পীড়নের সংক্ষিপ্ত  দলিল!

“মার্চ ফর ডেমোক্রেসি” থেকে “জুলাই বিপ্লব” স্বৈরাচারের দীর্ঘ সময়ের দমন-পীড়নের সংক্ষিপ্ত দলিল!

জে এস সেলিম

২০১৩ সালের ২৯শে ডিসেম্বর, তৎকালীন চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া “মার্চ ফর ডেমোক্রেসি” নামে যে কর্মসূচির ঘোষণা দেন, তা ছিল একটি শান্তিপূর্ণ, স্বাধিকার ও দুঃশাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার। কিন্তু সেই কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে দেখা দেয় এক নতুন ইতিহাসের সূচনা—যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরে শুরু হয় এক দমন-পীড়ন নির্ভর শাসনের নির্মম চিত্র।

তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন “মার্চ ফর ডেমোক্রেসি”-কে ভয় পেয়ে নানা ধরনের কৌশলে কর্মসূচি দমন করতে উদ্যত হয়। বালুর ট্রাক দিয়ে নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে ব্যারিকেড তৈরি, ঢাকা মহানগরজুড়ে যান চলাচলে কৃত্রিম অচলাবস্থা সৃষ্টি এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাঁধা দেওয়া ছিল তার সূচনা মাত্র।

পরবর্তীতে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র—সেনাবাহিনী, পুলিশ, সচিবালয় ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে ঢেলে সাজিয়ে, চারদলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দায়ের ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বিতাড়নের চেষ্টা করা হয়। ইসলামপন্থী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ করলে, তাদের বিরুদ্ধে “জঙ্গি” অপবাদ ছড়িয়ে তাদের দমন করা হয়।

এর পাশাপাশি, বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে চলমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ফাঁসিতে ঝোলানোর এক নির্মম চিত্র ফুটে ওঠে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, ক্রসফায়ার নামক ‘আইনি হত্যাকাণ্ড’ এবং প্রতিবাদ দমনে গুলি চালানোর নির্দেশ রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়। উন্নয়নের নামে ‘আইওয়াশ’ পরিচালনার পাশাপাশি শেয়ারবাজার ধ্বংস করে জনগণের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করা হয়।

রাষ্ট্রীয় লুণ্ঠনে যুক্ত হয় কিছু ক্ষমতানুরাগী করপোরেট প্রতিষ্ঠান—যাদের মাধ্যমে সম্পদ হাতবদলের ‘সফট করাপশন’কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়।

এই দীর্ঘ সময় ধরে চলে বৈষম্য, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক করুণ অধ্যায়।

শেষমেশ, ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণআন্দোলন ও জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের মাধ্যমে অবসান ঘটে এই দীর্ঘ স্বৈরশাসনের। একটি নতুন সূর্যোদয় হয় গণতন্ত্রের পথচলায়।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—প্রতিবন্ধকতা, দমন-পীড়ন কখনোই জনতার আকাঙ্ক্ষাকে রুদ্ধ করতে পারেনি। “মার্চ ফর ডেমোক্রেসি” হয়ে ওঠে একটি প্রতীক, যার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ এক দশক পর জনগণ নিজের অধিকার ফিরিয়ে আনতে সফল হয়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *