বিশেষ ডেক্স:
গাজা আজ আর নিছক একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়—এটি এখন এক রক্তমাখা ইতিহাস, একটি নীরব চিৎকার, একটি চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক। ইসরাইলের ধারাবাহিক বর্বর হামলায় গাজার আকাশ প্রতিদিনই কালো হয়ে উঠছে বারুদের ধোঁয়ায়, আর জমিন রঙিন হচ্ছে নিরীহ শিশুদের রক্তে।
গত কয়েক দিনে যেভাবে নারী, শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের উপর নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজ কল্পনাও করতে পারে না। স্কুল, হাসপাতাল, এমনকি শরণার্থী শিবিরও রক্ষা পাচ্ছে না এই আগ্রাসন থেকে। প্রশ্ন জাগে, এগুলো কি কেবল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, নাকি সুনির্দিষ্ট এক জাতিগোষ্ঠীকে ধ্বংসের পরিকল্পিত প্রয়াস?
ইসরাইল নিজেকে আত্মরক্ষার নামে যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, তা এক কথায় জঘন্য। এ ধরনের ‘আত্মরক্ষা’ যদি বৈধতা পায়, তবে পৃথিবীর কোনো দেশ, কোনো জনগোষ্ঠী নিরাপদ নয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো মুখে প্রতিবাদ জানালেও, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। জাতিসংঘ, ওআইসি কিংবা মানবিক দাতাসংস্থাগুলোর নীরবতা যেন এক প্রকার সম্মতিরই ইঙ্গিত বহন করে।
পশ্চিমা বিশ্ব, যারা ‘গণতন্ত্র’ ও ‘মানবাধিকারের’ বড় বড় বুলি আওড়ায়, তারা আজ কেন চুপ? প্যালেস্টাইনের শিশুদের রক্ত কি কম দামী? মুসলিম বলে কি তাদের প্রাণের মূল্য নেই?
গাজার আর্তনাদ আজ আমাদের ঘুম ভাঙাতে পারছে না, কারণ আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি সহিংসতা দেখায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, একটি নিরীহ শিশুর কান্না যদি বিশ্ব বিবেককে না জাগায়—তবে সভ্যতা বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই।
আমাদের সময় এসেছে প্রশ্ন তোলার, জবাব চাওয়ার এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর। নয়তো ইতিহাস আমাদেরও ক্ষমা করবে না।



