ছাগল গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: নারীসহ আহত ৫, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট

ছাগল গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: নারীসহ আহত ৫, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট

তানিন আফরিন
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর ঘাগোয়া (নতুন গ্রাম) এলাকায় ছাগল গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে এক পরিবারে হামলা চালিয়েছে একই গ্রামের কয়েকজন দুর্বৃত্ত।

এতে নারীসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘটনার সময় হামলাকারীরা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে।

ভুক্তভোগী জাবেদ হোসেন (৩৫) গতকাল গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, ১০ জুন ২০২৫, বিকাল ৪টার দিকে তার পরিবারের একটি ছাগল প্রতিবেশীর গাছ খাওয়ায় কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

এ সময় ১নং আসামী খাদেম হোসেন (৫৫) এর নেতৃত্বে অন্তত ১০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বাড়ির আঙিনায় ঢুকে হামলা চালায়।

হামলায় তার বড় ভাই জাকির হোসেন, চাচাতো ভাই আব্দুর রউফ, স্ত্রী মৌসুমী আক্তার এবং ফুফাতো বোন আদ রানী গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে মৌসুমীর মাথায় বেকির আঘাতে হাড় ভেঙে যায়, আর আব্দুর রউফ ধারালো ছুরির কোপে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় আসামি নারীদের শ্লীলতাহানি করে এবং মৌসুমীর গলা থেকে ৮ আনার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া বসতঘরে ঢুকে সোকেসে রাখা গরু বিক্রির নগদ ১,২০,০০০ টাকা নিয়ে যায়। ঘরবাড়ির বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ৫০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি করে তারা।

শোরগোল শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে হামলাকারীদের কবল থেকে আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় মোঃ সাইদুল হক, মোঃ শহিদুল মহরি ও মোছাঃ দিলরুবা খাতুনসহ একাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষী দিয়েছেন।

হামলাকারীরা প্রকাশ্যেই হুমকি দিয়েছে, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তারা ফের হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করবে এবং ভুক্তভোগীদের শান্তিতে বসবাস করতে দেবে না। বর্তমানে আহতদের মধ্যে মৌসুমী, আব্দুর রউফ ও আদ রানীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *