নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা:
একজন সফল উদ্যোক্তা শুধু নিজের ভাগ্যই বদলান না, বদলে দেন সমাজের অসংখ্য মানুষের জীবনও। গাইবান্ধা শহরের একোস্টেডপাড়ার নারী উদ্যোক্তা মাহাবুবা সুলতানা সেই বিরল উদাহরণগুলোর একজন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আনিকা’স ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড’ আজ শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং অবহেলিত নারী, ছাত্রী ও তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) মানুষের স্বপ্ন পূরণের একটি নির্ভরতার ঠিকানা।
২০২০ সালে উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন মাহাবুবা সুলতানা। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজের দক্ষতা, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতায় গড়ে তুলেছেন একটি সফল হস্তশিল্পভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এখানে তৈরি হয় আকর্ষণীয় পোশাক, নকশিকাঁথা, বেডশিট, পাটজাত পণ্য, মেটালের গহনা এবং হাতের তৈরি বিভিন্ন নান্দনিক সামগ্রী।
বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ২৫ জন অবহেলিত নারী ও ছাত্রী নিয়মিত কাজ করছেন। তাঁদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য হাতে-কলমে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে অবহেলিত নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তিনি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মাহাবুবা সুলতানা নিজেও একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা। তিনি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পভিত্তিক নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি, বাংলাদেশ (নাসিব) গাইবান্ধা জেলা শাখার নারী উদ্যোক্তা কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং জেলার নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
তিনি বলেন, “কাজ আমার নেশা। আমি চাই, কোনো নারী যেন অসহায় হয়ে না থাকে। সবাই যেন নিজের দক্ষতায় স্বাবলম্বী হতে পারে। তাই প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে নেওয়াই আমার লক্ষ্য।”

স্থানীয়দের মতে, মাহাবুবা সুলতানার মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই গাইবান্ধায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ ঘটছে। একই সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও তিনি রেখে চলেছেন অনন্য অবদান।
স্বপ্ন, সংগ্রাম, মানবিকতা আর পরিশ্রম—এই চার শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা মাহাবুবা সুলতানা আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম।

Reporter Name 








