গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
মাত্র পাঁচ হাজার টাকার পুজি আর সুই-সুতোর স্বপ্নকে সম্বল করে আজ সফলতার চূড়ায় গাইবান্ধার তাসলিমা আজম লিজা। সব সামাজিক বাধা ও অর্থনৈতিক সংকট পেরিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের বুটিক ও হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান ‘ফাতিহা হ্যান্ডিক্রাফট’। তার এই উদ্যোগ শুধু তাকেই স্বাবলম্বী করেনি, বরং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এলাকার ২০০ এর অধিক সুবিধাবঞ্চিত নারী ও ছাত্রীর।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালে নিজের জমানো অল্প কিছু টাকা দিয়ে কাপড়ের ব্যবসা ও নকশিকাঁথার কাজ শুরু করেন তাসলিমা আজম।

ছোটবেলা থেকেই ইউটিউব দেখে নিজের চেষ্টায় ব্লক, বাটিক এবং দর্জির কাজ রপ্ত করেছিলেন। ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ফাতিহা হ্যান্ডিক্রাফট’ নামে একটি পেজ খোলেন তিনি। নিজের তৈরি থ্রি-পিস, শাড়ি, ফ্রক, পাঞ্জাবি, চাদর ও কুশন কভারের ছবি সেখানে পোস্ট করার পর থেকেই আসতে থাকে বিপুল সাড়া। শুরুর পথটা মোটেও সহজ ছিল না। মফস্বল শহরের একজন নারী হিসেবে তাকে নানা সামাজিক কুসংস্কার ও পারিবারিক আপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে তাসলিমার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে সব প্রতিবন্ধকতা।স্বামীর পরিবার থেকেও পূর্ণ সমর্থন পান তিনি।তাসলিমার তৈরি সম্পূর্ণ দেশীয় কাঁচামাল ও সুতোর নিখুঁত কাজের পোশাক এখন শুধু গাইবান্ধা বা বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইনের কল্যাণে তার তৈরি পোশাকের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে উইমেন ইন ডিজিটাল থেকে ‘উইমেন অ্যান্ড আইটি-কমার্স’ অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের সম্মাননা পেয়েছেন তসলিমা। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি (নাসিব) গাইবান্ধা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাসলিমা আজম জানান, “আমাদের নারীরা ঘরে বসেও স্বাবলম্বী হতে পারেন। সঠিক সুযোগ আর একটুখানি ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বাধাই টপকানো সম্ভব। আমি চাই গাইবান্ধার প্রতিটি নারী যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।”

Reporter Name 








