মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোয়ালীতে কাগজে একই অর্থবছরে দুই প্রকল্প, মাঠে একই রাস্তা, নেই দৃশ্যমান কাজ!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬৭ Time View

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) সাধারণ কর্মসূচির একই রাস্তা পৃথক দুই পর্যায়ের প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। দুই প্রকল্পে ১১ টন করে মোট ২২ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে রাস্তার উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।

প্রকল্প তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কাবিখা সাধারণের ১ম পর্যায়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের “আমিনুলের দোকান সিসি রাস্তার মাথা হতে হাবিজারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার” প্রকল্পটি নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের বিপরীতে ১১ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়।

একই অর্থবছরের কাবিখা সাধারণের ২য় পর্যায়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের “খামার বোয়ালী চৌরাঙ্গী সিসি রাস্তার মাথা হতে ছাইদার মাস্টারের জমি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার” প্রকল্পটি নেওয়া হয়। এ প্রকল্পেও ১১ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ দুই পর্যায়ে রাস্তা সংস্কারের নামে মোট ২২ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার বেহাল চিত্রই দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই প্রকল্পে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও পর্যায় উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে প্রকল্প দুটি একই রাস্তার অংশকে ঘিরে। একই অর্থবছরে একই রাস্তার জন্য দুইবার প্রকল্প নেওয়া হলেও সেই অনুপাতে সংস্কার কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুরো রাস্তার সামান্য একটি অংশে শ্রমিক দিয়ে কিছু মাটি ফেলা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যে পরিমাণ কাজ করা হয়েছে তা পুরো রাস্তার ১০ শতাংশও হবে না। বর্তমানে রাস্তার বিভিন্ন অংশ বেহাল থাকায় অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এলাকার অন্তত ১৪-১৫ জন বাসিন্দা একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, দুই দফায় মোট ২২ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হলে সেই বরাদ্দের বিপরীতে রাস্তার বাস্তব সংস্কার কোথায়?

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে কাবিখার প্রকল্পের অর্থ বা বরাদ্দ নয়ছয় হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, বরাদ্দ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির নথি, গম উত্তোলন ও বিতরণের তথ্য, বিল-ভাউচার এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত কাজের পরিমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল রানা নিজ ওয়ার্ডে নিয়মিত থাকেন না এবং শহরে বসবাস করায় এলাকার উন্নয়নকাজে তার সরাসরি তদারকি নেই। তাদের অভিযোগ, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিদের দেখা গেলেও পরবর্তীতে এলাকার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে তাদের তেমন ভূমিকা দেখা যায় না।

এ কারণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইউপি সদস্যের জবাবদিহি দাবি করেছেন এবং একই সঙ্গে রাস্তার কাজ দ্রুত পুনরায় করার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য সোহেল রানা-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি আপনাকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই।” এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম সাবু-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এখন স্থানীয়দের মূল প্রশ্ন দুই প্রকল্পে মোট ২২ টন গম বরাদ্দের পরও রাস্তার সংস্কার কাজ কেন এত কম? একই রাস্তা দুই পর্যায়ের প্রকল্পে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো? বরাদ্দকৃত ২২ টন গমের বিপরীতে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু কাজ হয়েছে এবং বরাদ্দের গম কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পের কাগজপত্র যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

উৎসবের আমেজে গাইবান্ধায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় মুখর রাজপথ

বোয়ালীতে কাগজে একই অর্থবছরে দুই প্রকল্প, মাঠে একই রাস্তা, নেই দৃশ্যমান কাজ!

Update Time : ০৩:১০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) সাধারণ কর্মসূচির একই রাস্তা পৃথক দুই পর্যায়ের প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। দুই প্রকল্পে ১১ টন করে মোট ২২ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে রাস্তার উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।

প্রকল্প তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কাবিখা সাধারণের ১ম পর্যায়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের “আমিনুলের দোকান সিসি রাস্তার মাথা হতে হাবিজারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার” প্রকল্পটি নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের বিপরীতে ১১ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়।

একই অর্থবছরের কাবিখা সাধারণের ২য় পর্যায়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের “খামার বোয়ালী চৌরাঙ্গী সিসি রাস্তার মাথা হতে ছাইদার মাস্টারের জমি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার” প্রকল্পটি নেওয়া হয়। এ প্রকল্পেও ১১ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ দুই পর্যায়ে রাস্তা সংস্কারের নামে মোট ২২ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার বেহাল চিত্রই দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই প্রকল্পে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও পর্যায় উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে প্রকল্প দুটি একই রাস্তার অংশকে ঘিরে। একই অর্থবছরে একই রাস্তার জন্য দুইবার প্রকল্প নেওয়া হলেও সেই অনুপাতে সংস্কার কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুরো রাস্তার সামান্য একটি অংশে শ্রমিক দিয়ে কিছু মাটি ফেলা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যে পরিমাণ কাজ করা হয়েছে তা পুরো রাস্তার ১০ শতাংশও হবে না। বর্তমানে রাস্তার বিভিন্ন অংশ বেহাল থাকায় অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এলাকার অন্তত ১৪-১৫ জন বাসিন্দা একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, দুই দফায় মোট ২২ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হলে সেই বরাদ্দের বিপরীতে রাস্তার বাস্তব সংস্কার কোথায়?

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে কাবিখার প্রকল্পের অর্থ বা বরাদ্দ নয়ছয় হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, বরাদ্দ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির নথি, গম উত্তোলন ও বিতরণের তথ্য, বিল-ভাউচার এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত কাজের পরিমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল রানা নিজ ওয়ার্ডে নিয়মিত থাকেন না এবং শহরে বসবাস করায় এলাকার উন্নয়নকাজে তার সরাসরি তদারকি নেই। তাদের অভিযোগ, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিদের দেখা গেলেও পরবর্তীতে এলাকার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে তাদের তেমন ভূমিকা দেখা যায় না।

এ কারণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইউপি সদস্যের জবাবদিহি দাবি করেছেন এবং একই সঙ্গে রাস্তার কাজ দ্রুত পুনরায় করার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য সোহেল রানা-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি আপনাকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই।” এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম সাবু-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এখন স্থানীয়দের মূল প্রশ্ন দুই প্রকল্পে মোট ২২ টন গম বরাদ্দের পরও রাস্তার সংস্কার কাজ কেন এত কম? একই রাস্তা দুই পর্যায়ের প্রকল্পে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো? বরাদ্দকৃত ২২ টন গমের বিপরীতে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু কাজ হয়েছে এবং বরাদ্দের গম কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পের কাগজপত্র যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।