গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোদ্দ কোমরপুর ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় কার্যালয়কে সারের গুদাম হিসেবে দেখিয়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সার ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার খোদ্দ কোমরপুর বাজারের ‘সাহাদুল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাহাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাহাদুল ট্রেডার্সের ডিলারশিপের জন্য ব্যবহৃত গুদাম হিসেবে চিহ্নিত স্থাপনাটি খোদ্দ কোমরপুর ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয় বলে প্রতীয়মান হয়। সেখানে অফিসের ভেতরে বিভিন্ন নেতাকর্মীর ছবি, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়।
এ অবস্থায় একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়কে সারের গুদাম হিসেবে দেখিয়ে কীভাবে ডিলারশিপের অনুমোদন দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য সাহাদুল ইসলাম যে ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন, সেগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এসব নথির বৈধতা ও যথার্থতা তদন্ত করে দেখা উচিত।
এ ছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, সাহাদুল ইসলামের আগে সার কেনাবেচা কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। সরকারি নীতিমালায় ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাতকে ফোন করা হলে তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে ডিলারশিপ অনুমোদন, গুদাম পরিদর্শন এবং অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণের ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা যাচাই এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি। তা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এবং কৃষি বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ডিলারশিপের জন্য দাখিল করা কাগজপত্র, গুদামের বাস্তব অবস্থা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ব্যবসায়িক যোগ্যতা যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও বক্তব্যের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং ডিলারশিপ অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Reporter Name 
















