সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘাগোয়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪০ Time View

মোঃ রিয়াদ প্রধান

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১০ নম্বর ঘাগোয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সার ডিলার নিয়োগ ও গোডাউন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, জালিয়াতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষে ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর আলম।
বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর দুপুর ২টায় গাইবান্ধায় বাংলাদেশ তৃণমূল কল্যাণ সোসাইটির জেলা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘাগোয়া ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাকোয়াত হোসেনের ডিলারশিপ ও গোডাউন অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই গোডাউনটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গোডাউনটির আয়তন মাত্র ৪৫২ বর্গফুট বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গোডাউনটির মেঝেতে বড় ধরনের ফাটল রয়েছে এবং মেঝে দেবে গেছে বলেও অভিযোগ করা হয়। অভিযোগকারীর মতে, এ ধরনের অবকাঠামো রাসায়নিক সার সংরক্ষণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি ডিলারশিপের জন্য দাখিল করা ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর রিটার্নের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গাইবান্ধা সদর কার্যালয়ের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজাজমির হোসেন অনৈতিক সুবিধা ও অর্থের বিনিময়ে গোডাউনটিকে উপযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
অভিযোগকারীর দাবি, যথাযথভাবে সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করায় প্রকৃত ও যোগ্য ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ কারণে ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট গোডাউনটি সরেজমিনে পুনরায় পরিদর্শন, দাখিল করা নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই এবং সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, লিখিত আবেদনের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

অন্যের সিমেন্টের গুদাম দেখিয়ে স্ত্রীর নামে সার ডিলারশিপ! সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ঘাগোয়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৬:০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মোঃ রিয়াদ প্রধান

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১০ নম্বর ঘাগোয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সার ডিলার নিয়োগ ও গোডাউন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, জালিয়াতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষে ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর আলম।
বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর দুপুর ২টায় গাইবান্ধায় বাংলাদেশ তৃণমূল কল্যাণ সোসাইটির জেলা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘাগোয়া ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাকোয়াত হোসেনের ডিলারশিপ ও গোডাউন অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই গোডাউনটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গোডাউনটির আয়তন মাত্র ৪৫২ বর্গফুট বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গোডাউনটির মেঝেতে বড় ধরনের ফাটল রয়েছে এবং মেঝে দেবে গেছে বলেও অভিযোগ করা হয়। অভিযোগকারীর মতে, এ ধরনের অবকাঠামো রাসায়নিক সার সংরক্ষণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি ডিলারশিপের জন্য দাখিল করা ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর রিটার্নের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গাইবান্ধা সদর কার্যালয়ের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজাজমির হোসেন অনৈতিক সুবিধা ও অর্থের বিনিময়ে গোডাউনটিকে উপযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
অভিযোগকারীর দাবি, যথাযথভাবে সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করায় প্রকৃত ও যোগ্য ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ কারণে ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট গোডাউনটি সরেজমিনে পুনরায় পরিদর্শন, দাখিল করা নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই এবং সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, লিখিত আবেদনের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।