সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধা পাউবোতে দেড় কোটি টাকার সংস্কারকাজের হদিস নেই, সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫২ Time View

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: কাগজে-কলমে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি। অথচ সরেজমিনে সেই সংস্কারকাজের দৃশ্যমান অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কলোনি ও বিভিন্ন স্থাপনা মেরামতের নামে অর্থ ব্যয়ের এমন অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

স্টার নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) পাউবোর মহাপরিচালক রুহুল আমিনের নির্দেশে জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুল মতিনকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত কোয়ার্টার মেরামত, দপ্তর সংস্কার, দেয়াল রং, স্যানিটারি সামগ্রী স্থাপন ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণের বিভিন্ন খাতে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ ১৪ টাকার বিল-ভাউচার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব কাজের বাস্তব চিত্র নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে গাইবান্ধা পাউবো কলোনির বিভিন্ন বাসাবাড়িতে জরাজীর্ণ টিনের চাল, পুরোনো দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা ও বৃষ্টির পানি ঘরে প্রবেশের মতো পরিস্থিতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বরাদ্দ না থাকায় নিজেদের অর্থেই তাঁদের বাসাবাড়ি মেরামত করতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কোন ঠিকাদার বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব কাজ করেছে, কোথায় সংস্কার হয়েছে কিংবা কোন পত্রিকায় দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম।

এ ঘটনায় সরকারি অর্থের ব্যয়, কাজের বাস্তবতা, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এখন জনমনে প্রশ্ন—কাগজে দেখানো কোটি টাকার সংস্কারকাজ কোথায় হয়েছে? তদন্তে কি বেরিয়ে আসবে অর্থ ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

অন্যের সিমেন্টের গুদাম দেখিয়ে স্ত্রীর নামে সার ডিলারশিপ! সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

গাইবান্ধা পাউবোতে দেড় কোটি টাকার সংস্কারকাজের হদিস নেই, সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি

Update Time : ০৯:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: কাগজে-কলমে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি। অথচ সরেজমিনে সেই সংস্কারকাজের দৃশ্যমান অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কলোনি ও বিভিন্ন স্থাপনা মেরামতের নামে অর্থ ব্যয়ের এমন অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

স্টার নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) পাউবোর মহাপরিচালক রুহুল আমিনের নির্দেশে জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুল মতিনকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত কোয়ার্টার মেরামত, দপ্তর সংস্কার, দেয়াল রং, স্যানিটারি সামগ্রী স্থাপন ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণের বিভিন্ন খাতে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ ১৪ টাকার বিল-ভাউচার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব কাজের বাস্তব চিত্র নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে গাইবান্ধা পাউবো কলোনির বিভিন্ন বাসাবাড়িতে জরাজীর্ণ টিনের চাল, পুরোনো দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা ও বৃষ্টির পানি ঘরে প্রবেশের মতো পরিস্থিতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বরাদ্দ না থাকায় নিজেদের অর্থেই তাঁদের বাসাবাড়ি মেরামত করতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কোন ঠিকাদার বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব কাজ করেছে, কোথায় সংস্কার হয়েছে কিংবা কোন পত্রিকায় দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম।

এ ঘটনায় সরকারি অর্থের ব্যয়, কাজের বাস্তবতা, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এখন জনমনে প্রশ্ন—কাগজে দেখানো কোটি টাকার সংস্কারকাজ কোথায় হয়েছে? তদন্তে কি বেরিয়ে আসবে অর্থ ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।