সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘাগোয়া ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ, তদন্তে ডিসির হস্তক্ষেপ কামনা

  • Md Amzad Hossain
  • Update Time : ০৮:০৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩৩ Time View
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) সার ডিলার নিয়োগ এবং গোডাউন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, নথিপত্র জালিয়াতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আজ ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র দাখিল করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
আবেদনপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ঘাগোয়া ইউনিয়নের সোলাগাড়ী এলাকার ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ সাকোয়াত হোসেনকে বিসিআইসি সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালার চরম লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছে। সারের মতো সংবেদনশীল কৃষি উপকরণ মজুদের জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড না মেনে একটি অনুপযুক্ত স্থাপনাকেন্দ্রকে গোডাউন হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে মূল ৩টি বিষয়কে প্রধান অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:
১. গোডাউনের উপযোগিতা সংকট: নীতিমালায় পর্যাপ্ত আয়তনের সুরক্ষিত গোডাউনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, অনুমোদিত গোডাউনটি মাত্র প্রায় ৪৫২ বর্গফুটের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘর। যার মেঝেতে ইতিমধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন অংশ দেবে গেছে।

২. নথিপত্র জালিয়াতির সন্দেহ: ডিলারশিপের আবেদনের সঙ্গে দাখিলকৃত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স এবং আয়কর রিটার্নের (ট্যাক্স ফাইল) সত্যতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

৩. নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন: গোডাউনঘর সরেজমিনে পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাইবান্ধা সদর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজমির হোসেনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আর্থিক বিনিময়ে এই জরাজীর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত গোডাউনটিকে ‘উপযুক্ত’ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য:
অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের এই বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে জানতে আজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাইবান্ধা সদর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজমির হোসেনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “উপরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি শুধু নির্ধারিত ফরমটি পূরণ করে দিয়েছি। এর বাইরে বাকি সব সিদ্ধান্ত ও দায়-দায়িত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়, এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা নেই।”
অন্যদিকে, জনগুরুত্বপূর্ণ এই অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ কী হবে, তা জানতে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে এই মুহূর্তে কোনো বক্তব্য দিতে বা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘাগোয়া ইউনিয়নের উত্তর ঘাগোয়া (মধুপুর) গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এই আবেদনপত্রটি দাপ্তরিকভাবে জমা দেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এর অনুলিপি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের আশঙ্কা, এই অনিয়মের দ্রুত প্রতিকার না করা হলে ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকরা সঠিক সময়ে সার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট গোডাউনটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

অন্যের সিমেন্টের গুদাম দেখিয়ে স্ত্রীর নামে সার ডিলারশিপ! সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ঘাগোয়া ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ, তদন্তে ডিসির হস্তক্ষেপ কামনা

Update Time : ০৮:০৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) সার ডিলার নিয়োগ এবং গোডাউন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, নথিপত্র জালিয়াতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আজ ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র দাখিল করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
আবেদনপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ঘাগোয়া ইউনিয়নের সোলাগাড়ী এলাকার ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ সাকোয়াত হোসেনকে বিসিআইসি সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালার চরম লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছে। সারের মতো সংবেদনশীল কৃষি উপকরণ মজুদের জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড না মেনে একটি অনুপযুক্ত স্থাপনাকেন্দ্রকে গোডাউন হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে মূল ৩টি বিষয়কে প্রধান অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:
১. গোডাউনের উপযোগিতা সংকট: নীতিমালায় পর্যাপ্ত আয়তনের সুরক্ষিত গোডাউনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, অনুমোদিত গোডাউনটি মাত্র প্রায় ৪৫২ বর্গফুটের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘর। যার মেঝেতে ইতিমধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন অংশ দেবে গেছে।

২. নথিপত্র জালিয়াতির সন্দেহ: ডিলারশিপের আবেদনের সঙ্গে দাখিলকৃত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স এবং আয়কর রিটার্নের (ট্যাক্স ফাইল) সত্যতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

৩. নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন: গোডাউনঘর সরেজমিনে পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাইবান্ধা সদর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজমির হোসেনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আর্থিক বিনিময়ে এই জরাজীর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত গোডাউনটিকে ‘উপযুক্ত’ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য:
অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের এই বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে জানতে আজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাইবান্ধা সদর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজমির হোসেনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “উপরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি শুধু নির্ধারিত ফরমটি পূরণ করে দিয়েছি। এর বাইরে বাকি সব সিদ্ধান্ত ও দায়-দায়িত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়, এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা নেই।”
অন্যদিকে, জনগুরুত্বপূর্ণ এই অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ কী হবে, তা জানতে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে এই মুহূর্তে কোনো বক্তব্য দিতে বা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘাগোয়া ইউনিয়নের উত্তর ঘাগোয়া (মধুপুর) গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এই আবেদনপত্রটি দাপ্তরিকভাবে জমা দেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এর অনুলিপি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের আশঙ্কা, এই অনিয়মের দ্রুত প্রতিকার না করা হলে ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকরা সঠিক সময়ে সার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট গোডাউনটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।