সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধা জেলা পরিষদে ভুয়া ভাউচারের মহোৎসব, গায়েব এডিপির ১২ কোটি টাকা!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬৮৭ Time View
স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভুয়া ভাউচার আর কাল্পনিক প্রকল্পের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতের প্রায় ১২ কোটি টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করে আত্মসাৎ করার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি কোষাগারের অর্থ এভাবে পকেটস্থ করার ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। এই অনিয়মের মূল হোতা তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবদুর রউফ তালুকদার এবং জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু বকর সিদ্দিক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এডিপির টাকা অন্য কোনো খাতে ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও, সোনালী ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকের টাকা সরাসরি ক্যাশ করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন তারা।
কাগজে-কলমে পুকুর খনন, মার্কেট ও পার্ক নির্মাণ এবং অডিটোরিয়ামের আধুনিকায়নের কথা বলে বাজেট উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে এর কোনো হদিস মেলেনি। উল্টো ভুয়া ভাউচার সাজিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা অতিরিক্ত আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। [
সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিষয় হলো, এই বিশাল দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রউফ তালুকদার দম্ভোক্তি প্রকাশ করে বলেন, “আমি তো প্রমোশন নিয়ে এখন উপসচিব হয়েছি। কী দিয়ে আমাকে ধরবেন।” একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার মুখে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রশাসনের নৈতিকতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। 
জেলা পরিষদের অর্থ এভাবে লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সুশাসনের স্বার্থে এই ‘উপসচিব’ এবং তার রাজনৈতিক সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধার সচেতন মহল।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

অন্যের সিমেন্টের গুদাম দেখিয়ে স্ত্রীর নামে সার ডিলারশিপ! সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

গাইবান্ধা জেলা পরিষদে ভুয়া ভাউচারের মহোৎসব, গায়েব এডিপির ১২ কোটি টাকা!

Update Time : ০২:২৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভুয়া ভাউচার আর কাল্পনিক প্রকল্পের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতের প্রায় ১২ কোটি টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করে আত্মসাৎ করার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি কোষাগারের অর্থ এভাবে পকেটস্থ করার ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। এই অনিয়মের মূল হোতা তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবদুর রউফ তালুকদার এবং জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু বকর সিদ্দিক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এডিপির টাকা অন্য কোনো খাতে ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও, সোনালী ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকের টাকা সরাসরি ক্যাশ করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন তারা।
কাগজে-কলমে পুকুর খনন, মার্কেট ও পার্ক নির্মাণ এবং অডিটোরিয়ামের আধুনিকায়নের কথা বলে বাজেট উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে এর কোনো হদিস মেলেনি। উল্টো ভুয়া ভাউচার সাজিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা অতিরিক্ত আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। [
সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিষয় হলো, এই বিশাল দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রউফ তালুকদার দম্ভোক্তি প্রকাশ করে বলেন, “আমি তো প্রমোশন নিয়ে এখন উপসচিব হয়েছি। কী দিয়ে আমাকে ধরবেন।” একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার মুখে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রশাসনের নৈতিকতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। 
জেলা পরিষদের অর্থ এভাবে লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সুশাসনের স্বার্থে এই ‘উপসচিব’ এবং তার রাজনৈতিক সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধার সচেতন মহল।