সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার হাজী ওসমান গনি কলেজে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ ও অবৈধভাবে এমপিও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৯৯ Time View
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার ‘হাজী ওসমান গনি কলেজ’-এর বিজ্ঞান বিভাগে নানা অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের অপচেষ্টা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী ছাড়াই অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ চালু রাখতে হলে প্রতি বিভাগে ন্যূনতম ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ হাজী ওসমান গনি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। নীতিমালার ১৮.৪ বিধি অনুযায়ী কাম্য শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কলেজটিতে বিজ্ঞান শাখা সচল রাখা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকার পরও প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগে ৩ জন শিক্ষক ও ৩ জন ল্যাব প্রদর্শক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) উত্তোলন করে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন, যা নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
সচেতন নাগরিকদের পক্ষে দাখিল করা ওই আবেদনে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রকাশ্য নোটিশ বোর্ডে তথ্য না টাঙিয়ে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে গত ২০২৩ সালের মে মাস থেকে কয়েক দফায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও স্থগিতের নাটক করা হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গোপনে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জনবল নিয়োগের অপচেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে অভিযোগপত্রের সঙ্গে পূর্বের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার কাটিং, পূর্বের অনিয়মের তদন্তের চিঠি, নিয়োগ আবেদনের তালিকা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার কপিসহ মোট ১৭ পাতার তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে অভিযোগটি গ্রহণ করে একটি অফিশিয়াল সিল দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবেদনকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবে প্রকাশ্য জালিয়াতি চলতে পারে না। কাম্য শিক্ষার্থী না থাকার পরও সরকারের রাজস্বের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

অন্যের সিমেন্টের গুদাম দেখিয়ে স্ত্রীর নামে সার ডিলারশিপ! সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

গাইবান্ধার হাজী ওসমান গনি কলেজে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ ও অবৈধভাবে এমপিও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

Update Time : ০৩:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার ‘হাজী ওসমান গনি কলেজ’-এর বিজ্ঞান বিভাগে নানা অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের অপচেষ্টা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী ছাড়াই অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ চালু রাখতে হলে প্রতি বিভাগে ন্যূনতম ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ হাজী ওসমান গনি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। নীতিমালার ১৮.৪ বিধি অনুযায়ী কাম্য শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কলেজটিতে বিজ্ঞান শাখা সচল রাখা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকার পরও প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগে ৩ জন শিক্ষক ও ৩ জন ল্যাব প্রদর্শক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) উত্তোলন করে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন, যা নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
সচেতন নাগরিকদের পক্ষে দাখিল করা ওই আবেদনে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রকাশ্য নোটিশ বোর্ডে তথ্য না টাঙিয়ে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে গত ২০২৩ সালের মে মাস থেকে কয়েক দফায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও স্থগিতের নাটক করা হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গোপনে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জনবল নিয়োগের অপচেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে অভিযোগপত্রের সঙ্গে পূর্বের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার কাটিং, পূর্বের অনিয়মের তদন্তের চিঠি, নিয়োগ আবেদনের তালিকা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার কপিসহ মোট ১৭ পাতার তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে অভিযোগটি গ্রহণ করে একটি অফিশিয়াল সিল দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবেদনকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবে প্রকাশ্য জালিয়াতি চলতে পারে না। কাম্য শিক্ষার্থী না থাকার পরও সরকারের রাজস্বের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি