সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্যের সিমেন্টের গুদাম দেখিয়ে স্ত্রীর নামে সার ডিলারশিপ! সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৩ Time View

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় এক হিন্দু ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন সিমেন্টের গুদামঘর নিজের দাবি করে বিসিআইসি সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মূলত তাঁর স্ত্রীর নামে এই ডিলারশিপটি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই ডিলারশিপ অনুমোদনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজ রোডস্থ ‘আয়েশা ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা সারের ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী নিজস্ব বা ভাড়া নেওয়া সারের উপযোগী গুদামঘর থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তিনি কলেজ রোডের এক হিন্দু ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন ‘মেসার্স কুমুদিনী ট্রেডার্স’ নামক একটি চালু সিমেন্টের দোকান ও গুদামঘরকে নিজের সারের গুদাম হিসেবে নথিপত্রে প্রদর্শন করেন।
গত ২৪ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুদামঘরটি সম্পূর্ণভাবে ওই সিমেন্ট ব্যবসায়ীর তত্ত্বাবধানে ছিল এবং সিমেন্ট ব্যবসায়ী নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ওই দোকানে কখনোই সারের কোনো ব্যবসা ছিল না। দোকানটির মূল মালিকের ভাতিজা জানান, তিনি এই ঘরটি সিমেন্ট ব্যবসায়ীকে ৫ বছরের জন্য চুক্তিতে (ডিড) ভাড়া দিয়েছেন, যার মধ্যে মাত্র ২ বছর চলছে। দোকান মালিকের ভাতিজা ও স্থানীয় এলাকাবাসীও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, রাতারাতি ওই দোকানে সারের একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, গুদাম ঘরটি সম্পূর্ণভাবে সিমেন্ট ব্যবসায়ীর। সেখানে হঠাৎ সারের ডিলারশিপের এই ব্যানারটি কীভাবে ও কে লাগালো সে বিষয়ে তারা কেউই কিছু জানেন না।
তবে জালিয়াতির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি শামসুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, উক্ত গুদামঘরটি যৌথ মালিকানায় রয়েছে।
এদিকে সারের এই গুদামঘর পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীক জাহান ফোনে জানান, তাঁরা তদন্তের পর প্রকৃত ও সঠিক তথ্যই ইউএনও অফিসে পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদন দেওয়ার পরও এটি কীভাবে অনুমোদন পেল সে বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না এবং এটি ‘উপরের ব্যাপার’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাতকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। প্রকৃত সার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে এভাবে অন্যের বৈধ দোকান ও গুদাম জালিয়াতি করে সারের ডিলারশিপ অনুমোদনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই অবৈধ ডিলারশিপ বাতিল এবং জালিয়াতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

অন্যের সিমেন্টের গুদাম দেখিয়ে স্ত্রীর নামে সার ডিলারশিপ! সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

অন্যের সিমেন্টের গুদাম দেখিয়ে স্ত্রীর নামে সার ডিলারশিপ! সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

Update Time : ০১:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় এক হিন্দু ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন সিমেন্টের গুদামঘর নিজের দাবি করে বিসিআইসি সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মূলত তাঁর স্ত্রীর নামে এই ডিলারশিপটি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই ডিলারশিপ অনুমোদনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজ রোডস্থ ‘আয়েশা ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা সারের ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী নিজস্ব বা ভাড়া নেওয়া সারের উপযোগী গুদামঘর থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তিনি কলেজ রোডের এক হিন্দু ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন ‘মেসার্স কুমুদিনী ট্রেডার্স’ নামক একটি চালু সিমেন্টের দোকান ও গুদামঘরকে নিজের সারের গুদাম হিসেবে নথিপত্রে প্রদর্শন করেন।
গত ২৪ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুদামঘরটি সম্পূর্ণভাবে ওই সিমেন্ট ব্যবসায়ীর তত্ত্বাবধানে ছিল এবং সিমেন্ট ব্যবসায়ী নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ওই দোকানে কখনোই সারের কোনো ব্যবসা ছিল না। দোকানটির মূল মালিকের ভাতিজা জানান, তিনি এই ঘরটি সিমেন্ট ব্যবসায়ীকে ৫ বছরের জন্য চুক্তিতে (ডিড) ভাড়া দিয়েছেন, যার মধ্যে মাত্র ২ বছর চলছে। দোকান মালিকের ভাতিজা ও স্থানীয় এলাকাবাসীও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, রাতারাতি ওই দোকানে সারের একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, গুদাম ঘরটি সম্পূর্ণভাবে সিমেন্ট ব্যবসায়ীর। সেখানে হঠাৎ সারের ডিলারশিপের এই ব্যানারটি কীভাবে ও কে লাগালো সে বিষয়ে তারা কেউই কিছু জানেন না।
তবে জালিয়াতির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি শামসুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, উক্ত গুদামঘরটি যৌথ মালিকানায় রয়েছে।
এদিকে সারের এই গুদামঘর পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীক জাহান ফোনে জানান, তাঁরা তদন্তের পর প্রকৃত ও সঠিক তথ্যই ইউএনও অফিসে পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদন দেওয়ার পরও এটি কীভাবে অনুমোদন পেল সে বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না এবং এটি ‘উপরের ব্যাপার’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাতকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। প্রকৃত সার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে এভাবে অন্যের বৈধ দোকান ও গুদাম জালিয়াতি করে সারের ডিলারশিপ অনুমোদনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই অবৈধ ডিলারশিপ বাতিল এবং জালিয়াতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।