গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মোছাঃ জুই আক্তার ও তার স্বামী মোঃ সোলায়মান ইসলামের বিরুদ্ধে। ‘জুই ট্রেডার্স’-এর নামে ইউনিয়ন পর্যায়ে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি ডিলারশিপ হাতিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি বাড়িকে গোডাউন দেখিয়ে ডিলারশিপ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর রিটার্নের বৈধতা এবং নিয়োগের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সরজমিনে দেখা যায়, জুই ট্রেডার্সের গোডাউন হিসেবে একটি বাড়ি দেখানো হয়েছে, যার পাশে রয়েছে খাবারের দোকান। সার ডিলার নিয়োগের প্রযোজ্য নীতিমালায় গোডাউনের অবস্থান, সংরক্ষণব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
এ ছাড়া জুই আক্তারের আগে সার ব্যবসার অভিজ্ঞতা ছিল না। তাঁর দাখিল করা ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর রিটার্ন প্রকৃত ও বৈধ কি না, তা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এসব নথি যাচাই না করে ডিলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকলে তা নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। মোছাঃ জুই আক্তারের স্বামী মোঃ সোলায়মান ইসলাম আওয়ামীলীগের সম্পাদক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ অবস্থায় ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকার বিষয়ে প্রযোজ্য নীতিমালায় কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না এবং তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে জুই ট্রেডার্সের দাখিল করা কাগজপত্র, গোডাউন সরেজমিন পরিদর্শন, নিয়োগসংক্রান্ত নথি এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
কৃষকদের কাছে সার সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই কামারজানী ইউনিয়নের এই ডিলার নিয়োগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
Reporter Name 

















