বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকায় সাঘাটায় আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন: ঠিকাদার ওবায়দুরের চাঞ্চল্যকর তৎপরতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৩ Time View

সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ হওয়ার পরও গাইবান্ধার সাঘাটায় থেমে নেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আন্ডারগ্রাউন্ড তৎপরতা। এবার খোদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা হাতিয়ে সেই অর্থ দিয়ে সাঘাটায় নিষিদ্ধ এই সংগঠন ও ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মূল হোতা হিসেবে অভিযোগের তীর প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার মো. ওবায়দুর রহমানের দিকে। রাঙামাটির চকোরিয়ায় নিজ ঠিকাদারি সাইটে বসে তিনি গোপনে সাঘাটার পলাতক আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আর্থিক জোগান, পুনর্বাসন এবং সংগঠিত করার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করছেন।
জানা যায়, ওবায়দুর রহমানের পৈতৃক নিবাস সাঘাটার মুক্তিনগর ইউনিয়নের খামার ধনারুহা গ্রামে। বর্তমানে তিনি রাঙামাটির চকোরিয়ায় অবস্থান করে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে উপার্জিত বিপুল অর্থ তিনি এখন পলাতক সন্ত্রাসী ও দলীয় ক্যাডারদের পালতে ব্যয় করছেন। মূলত গাইবান্ধা-৫ আসনের পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান রিপনের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই তিনি মাঠে নেমেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওবায়দুর রহমান সাঘাটার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় নিজস্ব কিছু বেতনভুক্ত এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছেন। এই এজেন্টদের মূল কাজ হলো গরিব ও অসহায় মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সামান্য আর্থিক সহায়তার লোভ দেখিয়ে পতিত স্বৈরাচারের পক্ষে মগজধোলাই করা এবং দলে টানার অপচেষ্টা চালানো।
শুধু তাই নয়, রাতের আঁধারে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে পলাতক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একত্রিত করে বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য গোপন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওবায়দুর রহমানের স্পর্ধা এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ্যেই নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন উস্কানিমূলক পোস্ট শেয়ার করা হচ্ছে। পলাতক সাবেক এমপি মাহমুদ হাসান রিপনের প্রোপাগান্ডা ও উস্কানিমূলক বার্তাগুলো তিনি নিয়মিত ছড়িয়ে দিয়ে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
রাষ্ট্রীয় টাকায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের এমন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে সাঘাটা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনকে পুনরায় সক্রিয় করার অপচেষ্টা সাঘাটার মাটিতে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে এই ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল, তার অর্থের উৎস তদন্ত এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার ওবায়দুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয়ে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ তারা পাননি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

বাড়িই কি সারের গোডাউন? কামারজানীতে আ’লীগ নেতার স্ত্রীর ডিলারশিপ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ!

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকায় সাঘাটায় আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন: ঠিকাদার ওবায়দুরের চাঞ্চল্যকর তৎপরতা

Update Time : ০৮:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ হওয়ার পরও গাইবান্ধার সাঘাটায় থেমে নেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আন্ডারগ্রাউন্ড তৎপরতা। এবার খোদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা হাতিয়ে সেই অর্থ দিয়ে সাঘাটায় নিষিদ্ধ এই সংগঠন ও ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মূল হোতা হিসেবে অভিযোগের তীর প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার মো. ওবায়দুর রহমানের দিকে। রাঙামাটির চকোরিয়ায় নিজ ঠিকাদারি সাইটে বসে তিনি গোপনে সাঘাটার পলাতক আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আর্থিক জোগান, পুনর্বাসন এবং সংগঠিত করার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করছেন।
জানা যায়, ওবায়দুর রহমানের পৈতৃক নিবাস সাঘাটার মুক্তিনগর ইউনিয়নের খামার ধনারুহা গ্রামে। বর্তমানে তিনি রাঙামাটির চকোরিয়ায় অবস্থান করে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে উপার্জিত বিপুল অর্থ তিনি এখন পলাতক সন্ত্রাসী ও দলীয় ক্যাডারদের পালতে ব্যয় করছেন। মূলত গাইবান্ধা-৫ আসনের পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান রিপনের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই তিনি মাঠে নেমেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওবায়দুর রহমান সাঘাটার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় নিজস্ব কিছু বেতনভুক্ত এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছেন। এই এজেন্টদের মূল কাজ হলো গরিব ও অসহায় মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সামান্য আর্থিক সহায়তার লোভ দেখিয়ে পতিত স্বৈরাচারের পক্ষে মগজধোলাই করা এবং দলে টানার অপচেষ্টা চালানো।
শুধু তাই নয়, রাতের আঁধারে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে পলাতক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একত্রিত করে বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য গোপন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওবায়দুর রহমানের স্পর্ধা এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ্যেই নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন উস্কানিমূলক পোস্ট শেয়ার করা হচ্ছে। পলাতক সাবেক এমপি মাহমুদ হাসান রিপনের প্রোপাগান্ডা ও উস্কানিমূলক বার্তাগুলো তিনি নিয়মিত ছড়িয়ে দিয়ে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
রাষ্ট্রীয় টাকায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের এমন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে সাঘাটা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনকে পুনরায় সক্রিয় করার অপচেষ্টা সাঘাটার মাটিতে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে এই ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল, তার অর্থের উৎস তদন্ত এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার ওবায়দুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয়ে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ তারা পাননি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।