বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৪ কোটি টাকার এলজিইডি প্রকল্পে ২৮ কোটি টাকাই পরামর্শক ব্যয়ে

  • Md Amzad Hossain
  • Update Time : ১১:৩৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১৮ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনা (ই-সিএমএস) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং টেকসই ক্রয় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নেওয়া প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পে পরামর্শক সেবায় রাখা হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের মোট বরাদ্দের বড় একটি অংশই পরামর্শক খাতে যাওয়ায় এ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‘এলজিইডিতে ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনা (ই-সিএমএস) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং টেকসই ক্রয় বিষয়ক দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি ব্যক্তিভিত্তিক পরামর্শকের জন্য রাখা হয়েছে আরও ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই খাত মিলিয়ে পরামর্শক সেবায় ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের প্রায় ৮০ দশমিক ৮৭ শতাংশই পরামর্শক খাতে বরাদ্দ। সহজ হিসাবে প্রকল্পে প্রতি ১০০ টাকা ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৮১ টাকা ব্যয় হবে পরামর্শক সেবায়।

অন্যদিকে, প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য যেখানে এলজিইডির টেকসই ক্রয় সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সেখানে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ১২ লাখ টাকা। পরামর্শক সেবার বিপুল বরাদ্দের তুলনায় প্রশিক্ষণ খাতে এ বরাদ্দ অত্যন্ত কম।

স্থানীয় সরকার বিভাগের নথি অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন এলজিইডি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ই-সিএমএস ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং ক্রয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো হলেও মোট ব্যয়ের সিংহভাগ পরামর্শক সেবায় রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ দক্ষতা উন্নয়নে মাত্র ১২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে পরামর্শক খাতে প্রায় ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি প্রকল্পের ব্যয় কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে পরামর্শক খাতে এত বড় বরাদ্দের পেছনে কী ধরনের কাজ, জনবল, সময়কাল ও সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং নির্ধারিত অর্থের বিপরীতে কী কী সুনির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়া যাবে—এসব বিষয় প্রকল্পের বিস্তারিত নথি ও বাস্তবায়ন পর্যায়ের তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

বাড়িই কি সারের গোডাউন? কামারজানীতে আ’লীগ নেতার স্ত্রীর ডিলারশিপ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ!

৩৪ কোটি টাকার এলজিইডি প্রকল্পে ২৮ কোটি টাকাই পরামর্শক ব্যয়ে

Update Time : ১১:৩৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনা (ই-সিএমএস) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং টেকসই ক্রয় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নেওয়া প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পে পরামর্শক সেবায় রাখা হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের মোট বরাদ্দের বড় একটি অংশই পরামর্শক খাতে যাওয়ায় এ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‘এলজিইডিতে ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনা (ই-সিএমএস) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং টেকসই ক্রয় বিষয়ক দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি ব্যক্তিভিত্তিক পরামর্শকের জন্য রাখা হয়েছে আরও ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই খাত মিলিয়ে পরামর্শক সেবায় ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের প্রায় ৮০ দশমিক ৮৭ শতাংশই পরামর্শক খাতে বরাদ্দ। সহজ হিসাবে প্রকল্পে প্রতি ১০০ টাকা ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৮১ টাকা ব্যয় হবে পরামর্শক সেবায়।

অন্যদিকে, প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য যেখানে এলজিইডির টেকসই ক্রয় সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সেখানে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ১২ লাখ টাকা। পরামর্শক সেবার বিপুল বরাদ্দের তুলনায় প্রশিক্ষণ খাতে এ বরাদ্দ অত্যন্ত কম।

স্থানীয় সরকার বিভাগের নথি অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন এলজিইডি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ই-সিএমএস ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং ক্রয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো হলেও মোট ব্যয়ের সিংহভাগ পরামর্শক সেবায় রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ দক্ষতা উন্নয়নে মাত্র ১২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে পরামর্শক খাতে প্রায় ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি প্রকল্পের ব্যয় কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে পরামর্শক খাতে এত বড় বরাদ্দের পেছনে কী ধরনের কাজ, জনবল, সময়কাল ও সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং নির্ধারিত অর্থের বিপরীতে কী কী সুনির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়া যাবে—এসব বিষয় প্রকল্পের বিস্তারিত নথি ও বাস্তবায়ন পর্যায়ের তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।